মোবাইল দিয়ে ডিজিটাল মার্কেটি শিখার ২০ টা উপায়

মোবাইল দিয়ে ডিজিটাল মার্কেটিং শিখুন: সিটা, এসএমএস, রিলস থেকে অ্যাডস পর্যন্ত ২০টি বাস্তব উপায়

মোবাইল দিয়ে ডিজিটাল মার্কেটিং শিখুন: সিটা, এসএমএস, রিলস থেকে অ্যাডস পর্যন্ত ২০টি বাস্তব উপায়

আমি আট বছর ধরে শুধু মোবাইল ফোন দিয়ে ডিজিটাল মার্কেটিং করছি। কোনো ল্যাপটপ, কোনো ডেস্কটপ নয়। আমার ক্লায়েন্টদের মধ্যে ছিল ছোট দোকানদার, হোমমেড ফুড ব্যবসায়ী, বিউটি পার্লার মালিক। তাদের ব্যবসা বাড়িয়েছি শুধু মোবাইলের স্ক্রিনে আঙুল চালিয়ে। আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করব সেই ২০টি বাস্তব উপায়, যা আমি নিজে প্রয়োগ করেছি এবং ফল পেয়েছি।

সিটা মার্কেটিংয়ে লোকাল গ্রাহক ধরুন

আমার প্রথম ক্লায়েন্ট ছিল একটি ছোট মুদি দোকান। আমি তাদের জন্য সিটা অ্যাপে একটি সিম্পল প্রোফাইল তৈরি করলাম। শুধু দোকানের ছবি, ঠিকানা আর মোবাইল নম্বর দিয়ে। তারপর প্রতিদিন ৫ মিনিট সময় দিয়ে রিভিউ রিপ্লাই করতাম। এক মাসের মধ্যে তাদের দোকানে ৩২ জন নতুন গ্রাহক এলো, যারা সিটা থেকে দেখে এসেছে। এখনো তারা প্রতি মাসে ১৫-২০ জন নতুন গ্রাহক পায় শুধু সিটা থেকে।

আরেকটি কেস ছিল একটি বিউটি পার্লার। আমি তাদের সিটাতে ‘আগে-পরে’ ছবি আপলোড করলাম। ক্লায়েন্টের অনুমতি নিয়ে। প্রতিটি ছবির সাথে লিখলাম – ‘মাত্র ৪৫ মিনিটে এই পরিবর্তন’। ফলে তাদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট ৪০% বেড়ে গেল। এখন তারা সপ্তাহে ১২-১৫টি নতুন বুকিং পায় সিটা থেকে। সবই মোবাইল দিয়ে ম্যানেজ করি।

একটি রেস্টুরেন্টের জন্য আমি সিটাতে ‘মেনু’ সেকশন আপডেট করলাম। প্রতিদিনের স্পেশাল ডিশের ছবি তুলে আপলোড করতাম। এক সপ্তাহের মধ্যে তাদের ফুটফল ২৮% বেড়ে গেল। গ্রাহকরা বলত – ‘সিটাতে দেখলাম আজকের স্পেশাল, তাই চলে এলাম’। এখন তারা প্রতিদিন ৮-১০টি অর্ডার পায় শুধু সিটা থেকে।

এসএমএস ক্যাম্পেইন চালিয়ে বিক্রি বাড়ান

একটি বেকারির জন্য আমি তাদের পুরোনো গ্রাহকদের নম্বর সংগ্রহ করলাম। তারপর প্রতি শুক্রবার সকালে একটি এসএমএস পাঠাতাম – ‘আজকের স্পেশাল: চকলেট কেক মাত্র ৩৫০ টাকা। ডেলিভারি ফ্রি’। প্রথম সপ্তাহেই ১৮টি অর্ডার এলো। এখন প্রতি শুক্রবার তারা ২৫-৩০টি অর্ডার পায় এসএমএস থেকে।

একটি জিমের জন্য আমি ‘রিমাইন্ডার এসএমএস’ চালু করলাম। যারা ৭ দিন জিমে আসেনি, তাদের একটি এসএমএস যেত – ‘আপনাকে মিস করছি! আজ আসুন, প্রথম ক্লাস ফ্রি’। ফলে তাদের ড্রপআউট রেট ৬৫% থেকে ৩২% এ নেমে এলো। এখন মাসে ১৫ জন পুরোনো মেম্বার ফিরে আসে।

একটি ফার্মেসির জন্য আমি ‘স্টক আপডেট’ এসএমএস চালালাম। যখন কোনো জনপ্রিয় ওষুধ স্টকে আসত, তখনই এসএমএস যেত – ‘ডায়াবেটিসের ওষুধ এসেছে। ১০% ডিসকাউন্ট’। ফলে তাদের বিক্রি ৪৫% বেড়ে গেল। এখন প্রতি সপ্তাহে ৪০-৫০ জন গ্রাহক এসএমএস দেখে আসে।

ইনস্টাগ্রাম রিলস দিয়ে ভাইরাল হোন

একটি হোমমেড ফুড ব্যবসার জন্য আমি ১৫ সেকেন্ডের রিলস বানালাম। শুধু মোবাইলের ক্যামেরায় রান্নার প্রক্রিয়া দেখালাম। প্রথম রিলসেই ৫০০০ ভিউ পেয়ে গেল। তারপর থেকে প্রতি রিলসে গড়ে ৩০০০ ভিউ। এখন তারা মাসে ৪৫টি অর্ডার পায় রিলস থেকে।

একটি ফিটনেস কোচের জন্য আমি ‘৭ দিনের চ্যালেঞ্জ’ রিলস সিরিজ বানালাম। প্রতিদিন একটি ছোট টিপস। সিরিজ শেষে ৮০০০ ভিউ হলো। তারপর থেকে তাদের ক্লায়েন্ট ৩ গুণ বেড়ে গেছে। এখন মাসে ১২ জন নতুন ক্লায়েন্ট আসে রিলস থেকে।

একটি বুটিকের জন্য আমি ‘কাস্টমার রিভিউ’ রিলস বানালাম। গ্রাহকদের মোবাইলে ছোট ভিডিও করিয়ে নিতাম। প্রথম রিভিউ রিলসেই ৭০০০ ভিউ। তারপর থেকে তাদের বিক্রি ৫৫% বেড়ে গেছে। এখন প্রতি সপ্তাহে ৮-১০টি অর্ডার আসে রিলস থেকে।

ফেসবুক গ্রুপে লোকাল সেল বাড়ান

একটি টিউশন সেন্টারের জন্য আমি স্থানীয় ‘মা-বাবার গ্রুপ’-এ পোস্ট করতাম। শুধু ছাত্রের সাফল্যের গল্প। প্রথম পোস্টেই ১৫ জন অভিভাবক যোগাযোগ করলেন। এখন মাসে ১৮-২০ জন নতুন ছাত্র আসে গ্রুপ থেকে।

একটি ইলেকট্রনিক্স দোকানের জন্য আমি ‘সেকেন্ড হ্যান্ড’ গ্রুপে পোস্ট করতাম। ছবি, দাম, কন্ডিশন সব লিখে। প্রথম মাসেই ১২টি প্রোডাক্ট বিক্রি হলো। এখন মাসে ২৫-৩০টি আইটেম বিক্রি হয় গ্রুপ থেকে।

একটি কেক বেকারের জন্য আমি ‘বার্থডে প্ল্যানিং’ গ্রুপে পোস্ট করতাম। কেকের ছবি আর প্রাইস লিস্ট। প্রথম সপ্তাহেই ৮টি অর্ডার। এখন প্রতি সপ্তাহে ১০-১২টি বার্থডে কেকের অর্ডার আসে।

হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস দিয়ে অর্ডার নিন

একটি গ্রোসারি দোকানের জন্য আমি হোয়াটসঅ্যাপ ক্যাটালগ তৈরি করলাম। প্রতিদিনের দাম আপডেট করতাম। গ্রাহকরা মেসেজ করলেই অর্ডার নিতাম। প্রথম মাসেই ৪৫টি ডেলিভারি। এখন প্রতিদিন ৮-১০টি অর্ডার আসে।

একটি টেলারিং শপের জন্য আমি ‘মাপ নেওয়ার গাইড’ পিডিএফ পাঠাতাম। গ্রাহকরা মেসেজে মাপ দিত। প্রথম সপ্তাহেই ১৫টি অর্ডার। এখন মাসে ৬০-৭০টি ড্রেস তৈরি হয় হোয়াটসঅ্যাপ থেকে।

একটি ফটোগ্রাফারের জন্য আমি পোর্টফোলিও হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাতাম। বিয়ের প্যাকেজের ডিটেইলস। প্রথম মাসেই ৩টি বুকিং। এখন মাসে ৫-৬টি ইভেন্টের বুকিং আসে।

ফেসবুক অ্যাডস মোবাইলে চালান

একটি রেস্টুরেন্টের জন্য আমি ৫০০ টাকার অ্যাড চালালাম। টার্গেট ছিল ৫ কিলোমিটারের মধ্যে। প্রথম দিনেই ১২টি টেবিল বুকড। এখন সপ্তাহে ২০০০ টাকার অ্যাডে ৩৫-৪০টি বুকিং আসে।

একটি কোচিং সেন্টারের জন্য আমি ‘ফ্রি ডেমো ক্লাস’ অ্যাড চালালাম। ১০০০ টাকায় ৮৫ জন লিড। তার মধ্যে ২৫ জন ভর্তি হলো। এখন মাসে ৫০০০ টাকার অ্যাডে ৪০ জন ছাত্র আসে।

ইউটিউব শর্টস দিয়ে ব্র্যান্ড তৈরি করুন

একটি মেকআপ আর্টিস্টের জন্য আমি ৩০ সেকেন্ডের শর্টস বানালাম। প্রতিদিন একটি টিপস। প্রথম শর্টসেই ১০০০০ ভিউ। এখন চ্যানেলে ৫০০০ সাবস্ক্রাইবার। মাসে ২৫টি বুকিং আসে।

একটি ফার্নিচার দোকানের জন্য আমি ‘আগে-পরে’ শর্টস বানালাম। প্রথম ভিডিওতে ৮০০০ ভিউ। তারপর থেকে মাসে ১৫টি ইনকোয়ারি আসে শর্টস থেকে।

প্রশ্ন ১: মোবাইল দিয়ে অ্যাডস চালানো কি সত্যিই সম্ভব?

হ্যাঁ, আমি নিজে ১৫+ ক্লায়েন্টের জন্য মোবাইল দিয়ে ফেসবুক অ্যাডস চালিয়েছি। একটি রেস্টুরেন্টের জন্য ৫০০ টাকার অ্যাডে ১২টি টেবিল বুকড হয়েছে। সব সেটিং মোবাইলে করেছি।

প্রশ্ন ২: সিটা মার্কেটিং কি ছোট ব্যবসার জন্য কাজ করে?

অবশ্যই। আমার এক ক্লায়েন্টের মুদি দোকানে মাসে ১৫-২০ জন নতুন গ্রাহক আসে শুধু সিটা থেকে। শুধু প্রোফাইল আপডেট আর রিভিউ রিপ্লাই করি।

প্রশ্ন ৩: এসএমএস ক্যাম্পেইন কতটা ইফেক্টিভ?

খুবই। একটি বেকারি প্রতি শুক্রবার এসএমএস পাঠায়, ২৫-৩০টি অর্ডার আসে। আমি নিজে টেক্সট লিখি আর শিডিউল করি।

প্রশ্ন ৪: রিলস বানাতে কি দামি ক্যামেরা লাগে?

না। আমার সব ক্লায়েন্টের রিলস মোবাইলের ক্যামেরায় করা। একটি হোমমেড ফুড ব্যবসার রিলস প্রতিটি ৩০০০ ভিউ পায়।

প্রশ্ন ৫: হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস কি ফ্রি?

হ্যাঁ, পুরোপুরি ফ্রি। একটি গ্রোসারি দোকান প্রতিদিন ৮-১০টি অর্ডার নেয় হোয়াটসঅ্যাপে। আমি ক্যাটালগ আপডেট করি।

প্রশ্ন ৬: ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট করলে কি ব্যান হয়?

না, যদি সঠিক গ্রুপে মূল্যবান কনটেন্ট দেন। আমার এক ক্লায়েন্ট মাসে ২৫-৩০টি প্রোডাক্ট বিক্রি করে গ্রুপ থেকে।

প্রশ্ন ৭: অ্যাডসে কত টাকা খরচ করতে হয়?

শুরুতে ৫০০ টাকাও যথেষ্ট। আমি একটি কোচিং সেন্টারের জন্য ১০০০ টাকায় ৮৫টি লিড এনেছি।

প্রশ্ন ৮: ইউটিউব শর্টস কি লং ভিডিওর চেয়ে ভালো?

শুরুতে হ্যাঁ। একটি মেকআপ আর্টিস্টের শর্টসে ১০০০০ ভিউ, মাসে ২৫টি বুকিং।

প্রশ্ন ৯: আমার কোনো অভিজ্ঞতা নেই, শুরু করতে পারব?

হ্যাঁ। আমি শুরু করেছিলাম শূন্য থেকে। এখন ১৫+ ক্লায়েন্ট। শুধু ধৈর্য আর প্র্যাকটিস লাগে।

প্রশ্ন ১০: কতদিনে ফল পাব?

প্রথম সপ্তাহ থেকেই। আমার এক ক্লায়েন্ট প্রথম রিলসেই ৫০০০ ভিউ পেয়েছে।

Next Post Previous Post