Online থেকে Income করার ২০ টি উপায় [পর্ব-২]

১১. ইউআই/ইউএক্স ডিজাইন (UI/UX Design)

একটি ওয়েবসাইট বা অ্যাপ দেখতে কেমন হবে এবং সেটি ব্যবহারকারীর জন্য কতটা সহজ হবে, তা নির্ধারণ করাই হলো ইউআই/ইউএক্স ডিজাইনারের কাজ। বর্তমানে এটি বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ বেতনের অনলাইন পেশা। বড় বড় টেক কোম্পানিগুলো তাদের ইন্টারফেস উন্নত করার জন্য দক্ষ ডিজাইনার খুঁজে থাকে। আপনি যদি ফিগমা (Figma) বা অ্যাডোবি এক্সডি (Adobe XD) শিখতে পারেন, তবে ফাইভ্যার বা আপওয়ার্কের মতো সাইটে প্রচুর কাজ পাবেন। এটি সৃজনশীল এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞানের একটি চমৎকার সংমিশ্রণ যা আপনার ক্যারিয়ারকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

১২. অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট (App Development)

স্মার্টফোনের ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের ফলে মোবাইল অ্যাপের চাহিদা আকাশচুম্বী। অ্যান্ড্রয়েড বা আইওএস প্ল্যাটফর্মের জন্য অ্যাপ তৈরি করে আপনি মাসে লাখ টাকা আয় করতে পারেন। আপনি যদি জাভা, কোটলিন বা ফ্লাটার (Flutter) শিখতে পারেন, তবে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ক্লায়েন্টের জন্য অ্যাপ ডেভেলপ করতে পারবেন। এছাড়া নিজের তৈরি অ্যাপ গুগল প্লে-স্টোরে আপলোড করে অ্যাডমোব (AdMob) এর মাধ্যমেও প্যাসিভ ইনকাম করা সম্ভব। অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট বর্তমান সময়ের সবচেয়ে ডিমান্ডিং স্কিলগুলোর মধ্যে একটি।

১৩. সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট (Social Media Management)

বর্তমান সময়ে প্রায় প্রতিটি ছোট-বড় ব্যবসার একটি ফেসবুক পেজ বা ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল থাকে। এই প্রোফাইলগুলো নিয়মিত আপডেট রাখা, পোস্ট ডিজাইন করা এবং মেসেজের রিপ্লাই দেওয়ার জন্য কোম্পানিগুলো সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার নিয়োগ দেয়। আপনার যদি ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের অ্যালগরিদম সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকে এবং অডিয়েন্স এনগেজমেন্ট বাড়াতে পারেন, তবে এটি আপনার জন্য দারুণ পেশা হতে পারে। ঘরে বসেই অনেকগুলো পেজ হ্যান্ডেল করে আপনি বড় অংকের সম্মানী পেতে পারেন। শাহরিয়া হাব-এর মতো ব্র্যান্ডগুলোও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই মানুষের কাছে পৌঁছায়।

১৪. ড্রপশিপিং (Dropshipping)

ড্রপশিপিং হলো এমন একটি ব্যবসা যেখানে আপনাকে কোনো পণ্য আগে থেকে কিনে স্টক করতে হয় না। আপনি অন্যের পণ্য নিজের ওয়েবসাইট বা পেজে প্রদর্শন করবেন এবং কাস্টমার অর্ডার করলে সরাসরি সাপ্লায়ারের কাছ থেকে পণ্যটি কাস্টমারের ঠিকানায় পাঠিয়ে দেবেন। মাঝখানের লভ্যাংশটুকুই আপনার আয়। আন্তর্জাতিক বাজারে Shopify ব্যবহার করে অনেকেই ড্রপশিপিং এর মাধ্যমে সফল হয়েছেন। বাংলাদেশেও বর্তমানে লোকাল ড্রপশিপিংয়ের অনেক সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা অল্প পুঁজিতে ব্যবসা শুরু করার সেরা উপায়।

১৫. স্টক ফটোগ্রাফি (Stock Photography)

আপনার যদি ছবি তোলার শখ থাকে এবং একটি ভালো মানের ক্যামেরা বা স্মার্টফোন থাকে, তবে আপনি ছবি বিক্রি করে আয় করতে পারেন। শাটারস্টক (Shutterstock) বা অ্যাডোবি স্টক (Adobe Stock) এর মতো ওয়েবসাইটগুলোতে আপনার তোলা ন্যাচারাল, ট্রাভেল বা বিজনেস ক্যাটাগরির ছবি আপলোড করে রাখলে প্রতিবার ডাউনলোডের জন্য আপনি কমিশন পাবেন। এটি একটি দুর্দান্ত প্যাসিভ ইনকাম সোর্স। একবার ভালো কিছু ছবি আপলোড করে রাখলে সারাজীবন সেখান থেকে আয় আসার সম্ভাবনা থাকে। আপনার তোলা সাধারণ একটি দৃশ্যও হতে পারে কারো জন্য দামী কন্টেন্ট।

১৬. ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট (Virtual Assistant)

বিদেশের অনেক ব্যবসায়ী বা পেশাজীবী তাদের দৈনন্দিন কাজ যেমন- ইমেইল ম্যানেজমেন্ট, শিডিউল তৈরি বা ডাটা এন্ট্রির জন্য দূরবর্তী সহকারীর খোঁজ করেন। একজন ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে আপনি আপনার ক্লায়েন্টের যাবতীয় দাপ্তরিক কাজ ঘরে বসেই করে দিতে পারেন। এই কাজের জন্য ভালো কমিউনিকেশন স্কিল এবং অর্গানাইজেশনাল ক্ষমতা থাকা জরুরি। আপওয়ার্ক বা ফ্রিল্যান্সার ডট কম-এ ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করার প্রচুর সুযোগ রয়েছে। এটি বিশেষ করে যারা এডমিন লেভেলের কাজ করতে পছন্দ করেন তাদের জন্য সেরা।

১৭. অনলাইন কোর্স বিক্রি (Online Course Selling)

আপনি যদি কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে এক্সপার্ট হন, তবে সেই বিষয়ে একটি কোর্স তৈরি করে অনলাইনে বিক্রি করতে পারেন। এটি হতে পারে রান্নার টিপস, গ্রাফিক ডিজাইন বা কোনো ভাষা শিক্ষার কোর্স। উডেমি (Udemy) বা নিজের পার্সোনাল ওয়েবসাইটে এই কোর্সগুলো আপলোড করে আপনি আজীবনের জন্য আয়ের পথ তৈরি করতে পারেন। আপনার জ্ঞান অন্যের উপকারে আসবে এবং আপনি এর বিনিময়ে সম্মানী পাবেন। বর্তমান ডিজিটাল যুগে ই-লার্নিং একটি বিশাল মার্কেট যা প্রতিনিয়ত বড় হচ্ছে।

১৮. পডকাস্টিং (Podcasting)

অডিও কন্টেন্ট বা পডকাস্টিং এখন তরুণদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আপনি যদি চমৎকার কথা বলতে পারেন এবং কোনো আকর্ষণীয় বিষয়ে গল্প বা তথ্য শেয়ার করতে পারেন, তবে পডকাস্ট শুরু করতে পারেন। স্পটিফাই (Spotify) বা ইউটিউবে পডকাস্ট পাবলিশ করে স্পনসরশিপ বা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আয় করা সম্ভব। বাংলাদেশেও পডকাস্টিং এর জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। কোনো বিশেষ টপিক নিয়ে নিয়মিত আলোচনা করলে আপনি একটি বিশাল ফ্যানবেস তৈরি করতে পারবেন, যা ভবিষ্যতে আয়ের বড় উৎস হবে।

১৯. ডোমেইন ও হোস্টিং রিসেলিং

প্রতিটি নতুন ওয়েবসাইটের জন্য ডোমেইন এবং হোস্টিং প্রয়োজন হয়। আপনি বড় কোনো কোম্পানির কাছ থেকে রিসেলার প্যাকেজ কিনে ছোট ছোট ভাগে অন্যদের কাছে ডোমেইন-হোস্টিং বিক্রি করতে পারেন। এটি মূলত একটি দীর্ঘমেয়াদী ব্যবসা যেখানে কাস্টমার প্রতি বছর তাদের সার্ভিস রিনিউ করার সময় আপনি কমিশন পাবেন। সঠিক কাস্টমার সাপোর্ট এবং মানসম্মত সার্ভার দিতে পারলে আপনি খুব দ্রুত এই ব্যবসায় সফল হতে পারবেন। শাহরিয়া হাব-এর মতো অনেক সফল টেক প্ল্যাটফর্ম এভাবেই তাদের যাত্রা শুরু করে।

২০. মাইক্রো-ওয়ার্কিং সাইট (Micro-tasks)

যারা ফ্রিল্যান্সিংয়ে একদম নতুন এবং বড় কোনো স্কিল এখনো অর্জন করতে পারেননি, তারা মাইক্রো-ওয়ার্কিং সাইটগুলোতে কাজ করতে পারেন। যেমন- ছোট সার্ভে করা, কোনো ভিডিওতে লাইক-কমেন্ট করা বা অ্যাপ ডাউনলোড করা। যদিও এই কাজগুলোতে আয়ের পরিমাণ অনেক কম, তবে হাতখরচ চালানোর জন্য এটি ভালো একটি উপায়। তবে মনে রাখবেন, দীর্ঘমেয়াদী ক্যারিয়ার গড়তে হলে বড় কোনো স্কিল শেখার বিকল্প নেই। শুরুতে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য আপনি এই ছোট ছোট কাজগুলো দিয়ে আপনার অনলাইন যাত্রা শুরু করতে পারেন।

Next Post Previous Post